স্ট্রোক হলো এমন একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি, যেখানে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা রক্তনালী ফেটে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের কোনো অংশ অক্সিজেন পায় না, যা পেশি, স্নায়ু এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি করে।
স্ট্রোকের পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ভিটামিন ও পুষ্টিকর খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ভিটামিন গ্রহণ করলে স্নায়ু পুনর্জীবন, রক্ত সঞ্চালন ও সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব।
কেন স্ট্রোকের পর ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ?
স্ট্রোকের পর শরীর দুর্বল হয়, স্নায়ু ও পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভিটামিন শরীরকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে —
- স্নায়ু কোষ পুনরুদ্ধারে সাহায্য
- রক্তনালী সুস্থ রাখা
- পেশি শক্তি ও শারীরিক কার্যক্ষমতা বাড়ানো
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
তাই সঠিক ভিটামিন এবং পুষ্টিকর খাদ্য স্ট্রোকের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
স্ট্রোকের পর গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনসমূহ
১️ ভিটামিন B কমপ্লেক্স
ভিটামিন B (B1, B6, B12) স্নায়ু পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- B1 (Thiamine): স্নায়ুর সংকেত প্রেরণ ও শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
- B6 (Pyridoxine): হোমোসিস্টেইন নিয়ন্ত্রণ করে, যা স্ট্রোক ঝুঁকি কমায়।
- B12 (Cobalamin): স্নায়ু কোষ মেরামত ও রক্তের সুস্থতা বজায় রাখে।
B12 ঘাটতি অনেক স্ট্রোক রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাই ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নেওয়া জরুরি।
২️ ভিটামিন D
ভিটামিন D হাড় ও পেশির শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি পেশি দুর্বলতা কমায় এবং শরীরের মোট শক্তি বাড়ায়।
- সূর্যের আলো ভিটামিন D-এর অন্যতম উৎস।
যাদের সূর্যালোক কম পৌঁছায়, তাদের ডাক্তারি পরামর্শে ভিটামিন D সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।
৩️ ভিটামিন C
ভিটামিন C একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
- মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় কমায়।
- রক্তনালীর স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
কমলা, স্ট্রবেরি, কিউই ইত্যাদি ফল ভিটামিন C-এর ভালো উৎস।
৪️ভিটামিন E
ভিটামিন E স্নায়ু কোষের পুনর্বাসন ও রক্তনালী রক্ষা করে।
- পেশি দুর্বলতা কমায়
- মস্তিষ্কের রক্তনালীকে সুরক্ষিত রাখে
বাদাম, সূর্যমুখী বীজ ও পালং শাক ভিটামিন E-এর ভালো উৎস।
৫️ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

ওমেগা-৩ সরাসরি ভিটামিন না হলেও, স্ট্রোক পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ।
- মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে
- স্নায়ু কোষের পুনর্বাসনকে সহায়তা করে
- রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড কমায়
স্যালমন, স্যাডিন, আখরোট ও ফ্ল্যাক্সসিডে পাওয়া যায়।
৬️ ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম
- ম্যাগনেসিয়াম: পেশি আরাম ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- ক্যালসিয়াম: হাড় ও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ।
সবুজ শাক, বাদাম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে এই খনিজগুলো পাওয়া যায়।
কত ভিটামিন নেওয়া উচিত?
ভিটামিনের পরিমাণ রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ডায়েটের ওপর নির্ভর করে।
- B কমপ্লেক্স ও D ভিটামিন ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করুন।
- অতিরিক্ত ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট কিডনি বা লিভারে সমস্যা করতে পারে।
স্বতঃসিদ্ধভাবে ভিটামিন না নেওয়াই নিরাপদ।
খাদ্যাভ্যাস ও ভিটামিনের সমন্বয়
স্ট্রোকের পর পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য।
✅ প্রতিদিন অন্তর্ভুক্ত করুন —
- সবুজ শাক: পালং, ব্রকোলি, লেটুস
- ফল: কমলা, স্ট্রবেরি, কিউই
- বাদাম ও বীজ: আখরোট, সূর্যমুখী বীজ
- মাছ: স্যালমন, স্যাডিন
- দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, দই, চিজ
সুষম খাদ্য + ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট = দ্রুত পুনর্বাসন।
ভিটামিনের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে—
- হালকা ব্যায়াম বা প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা
- পর্যাপ্ত ঘুম
- মানসিক চাপ কমানো
- পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ
মানসিক স্থিতিশীলতা শারীরিক পুনর্বাসনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
উপসংহার
স্ট্রোকের পর সঠিক ভিটামিন গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা রোগীর পুনর্বাসন দ্রুততর করে।
- B কমপ্লেক্স, D, C, E এবং ওমেগা-৩ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
- ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নিন
- স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ব্যায়াম ও মানসিক সহায়তা ভিটামিনের কার্যকারিতা বাড়ায়
NHC Trust স্বনির্ভর জীবনের পথে নিয়ে যেতে সামর্থ্যের মধ্যেই অত্যাধুনিক ফিজিওথেরাপি ও বায়ো ফিজিক্যাল থেরাপি ব্যবস্থা পরিচালনা করে থাকে।
পরামর্শ: স্ট্রোক-পরবর্তী পুনর্বাসন ও সঠিক ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের জন্য যোগাযোগ করুন NHC Trust-এর ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে।
01931405986, 01910701955
https://www.nhctrust.org/contact-us/

